Showing posts with label চীন. Show all posts
Showing posts with label চীন. Show all posts

Thursday, July 22, 2021

চীনে নির্মাণাধীন টানেলে বন্যার পানি ঢুকে ১৩ শ্রমিকের মৃত্যু

চীনে নির্মাণাধীন টানেলে বন্যার পানি ঢুকে ১৩ শ্রমিকের মৃত্যু

চীনের দক্ষিণাঞ্চলের ঝুহাই শহরে নির্মাণাধীন টানেলে বন্যার পানি ঢুকে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। ছবি: রয়টার্স
চীনের দক্ষিণাঞ্চলের ঝুহাই শহরে নির্মাণাধীন টানেলে বন্যার পানি ঢুকে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। ছবি: রয়টার্স

চীনের দক্ষিণাঞ্চলের ঝুহাই শহরে নির্মাণাধীন টানেলে বন্যার পানি ঢুকে যাওয়ার পর সেখানে আটকে পড়া ১০ শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গত সপ্তাহে ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনায় এর আগে ওই টানেল থেকে আরও তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে টানেলটি থেকে মোট ১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হলো। গতকাল বুধবার চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।


১৫ জুলাই টানেলটিতে হঠাৎ বন্যার পানি ঢুকে পড়ে। টানেলে প্রবেশমুখ থেকে এক কিলোমিটারেরও বেশি ভেতরে আটকে পড়েন ১৪ শ্রমিক। তাঁদের মধ্যে ১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হলো। এখনো নিখোঁজ একজন। তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। উদ্ধারকর্মীরা বলছেন, নিখোঁজ ওই শ্রমিকের সঙ্গে এখনো কোনো ধরনের যোগাযোগ স্থাপন করতে পারেননি তাঁরা।


চীনের গুয়াংডং প্রদেশের ঝুহাই শহরে নির্মাণ করা হচ্ছে টানেলটি। এটি একটি এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের অংশ। এই মহাসড়ক প্রকল্পের আওতায় উপকূলবর্তী স্থানীয় শহরগুলোকে ম্যাকাও ও হংকংকে সংযোগকারী একটি সেতুর সঙ্গে যুক্ত করা হবে।


টানেলটিতে এর আগেও নির্মাণশ্রমিকদের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। গত মার্চে সেখানে প্রাচীরধসের ঘটনায় দুই শ্রমিক নিহত হন।

 এদিকে বন্যার জেরে চীনের হেনান প্রদেশে কমপক্ষে ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ সাতজন। প্রদেশটি থেকে এক লাখ মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বন্যার পানিতে ঢুবে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে রেল ও সড়ক যোগাযোগ। জারি করা হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতা। প্রদেশের বাঁধগুলো পানির চাপে যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


হেনানে ২৫ জনের মধ্যে ১২ জনেরই মৃত্যু হয় প্রদেশটির ঝেংঝউ শহরে পাতালরেলের ভেতর বন্যার পানি ঢুকে। টানা ভারী বৃষ্টিপাতে শহরের পাতালরেল স্টেশন ডুবে গিয়ে এ ঘটনা ঘটে। স্টেশন থেকে আরও ৫০০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।


মেট্রো স্টেশনে ট্রেনের ভেতরে পানি ঢুকে পড়ার কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যায়, ট্রেনের বগির ভেতরে পানি থেকে বের হতে চেষ্টা করছেন যাত্রীরা। একপর্যায়ে বগির ছাদ কেটে তাঁদের বের করতে হয় বলে উল্লেখ করেছে স্থানীয় গণমাধ্যম।


হেনানে মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে গংই শহরে বন্যায় বাড়ি ধসে নিহত চারজন রয়েছে। ঝেংঝউয়ের মতো এই শহরও ইয়োলো নদীর তীরে অবস্থিত। বৃষ্টিপাতের পর নদী থেকে পানি উপচে শহরে ঢোকে।


গত শনি থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত ঝেংঝউ শহরে ৬১৭ দশমিক ১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। সাধারণত, এক বছরে শহরটিতে এ পরিমাণ বৃষ্টি হয়। এমন বৃষ্টি ‘হাজার বছরে একবার দেখা যায়’ বলে উল্লেখ করেছে চীনের আবহাওয়া ব্যুরো। ঝেংঝউয়ে বছরে গড়ে ৪৬০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়।


তুমুল বৃষ্টিপাত ও বন্যার মধ্যে হেনানে শিগগির এ দুর্যোগ থামছে না বলে জানিয়েছে আবহাওয়া ব্যুরো। তারা জানিয়েছে, প্রদেশটিতে আগামী তিন দিনও ঝরবে বৃষ্টি। বৃষ্টিপাত ও বন্যার ক্ষয়ক্ষতি সামাল দিতে উপদ্রুত এলাকাগুলোয় ৫ হাজার ৭০০ সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।


চীনে বর্ষাকালে প্রায় প্রতিবছরই বন্যার দেখা দেয়। দেশটিতে নদীর তীরে ব্যাপক হারে বাঁধ নির্মাণ এর জন্য বহুলাংশে দায়ী বলে উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। 

প্রথম আলো

Tuesday, July 20, 2021

মাইক্রোসফটে সাইবার হামলা, চীনের নিন্দায় পশ্চিমারা

মাইক্রোসফটে সাইবার হামলা, চীনের নিন্দায় পশ্চিমারা

মাইক্রোসফটে সাইবার হামলা, চীনের নিন্দায় পশ্চিমারা


চলতি বছরের শুরুতে বড় ধরনের একটি সাইবার হামলার জন্য চীনকে দায়ী করেছে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। বৈশ্বিক সাইবার গুপ্তচরবৃত্তির জন্য তারা সোমবার (১৯ জুলাই) চীনের নিন্দা জানিয়েছে।

মাইক্রোসফটে সাইবার হামলা, চীনের নিন্দায় পশ্চিমারা

এতে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ন্যাটো, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, নিউজিল্যান্ড ও কানাডাও রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিংকিন বলেন, চীনের সাইবার হামলা আমাদের অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।-খবর রয়টার্স ও বিবিসির


মাইক্রোসফট এক্সচেঞ্জ সার্ভারকে হামলার নিশানা করা হয়েছিল। এতে বিশ্বজুড়ে অন্তত ৩০ হাজার সংস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। যুক্তরাজ্য বলছে, চীনা সরকার-সমর্থিত শক্তি এই সাইবার হামলায় ভূমিকা রেখেছে। আর ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে, চীনা ভূখণ্ড থেকে এই হামলা এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও বিদেশে কয়েক ডজন কোম্পানি, বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি সংস্থাকে হ্যাকিংয়ের টার্গেট করায় চার চীনা নাগরিককে অভিযুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার মন্ত্রণালয়। এই চার জনের মধ্যে তিন চীনা নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও একজন চুক্তিবদ্ধ হ্যাকার রয়েছেন।

তবে এ নিয়ে জানতে চাইলে ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এর আগে চীনা কর্মকর্তারা বলেছেন, তারা নিজেরাও হ্যাকিংয়ের শিকার এবং সব ধরনের সাইবার হামলার বিরোধী।

সাইবার হামলার নিন্দা জানিয়ে চীনের বিরুদ্ধে পশ্চিমা শক্তিগুলোর এই বিবৃতি বড় ধরনের জোটেরই প্রতিনিধিত্ব করছে। মার্কিন অভিযোগ ছাড়িয়ে চীনের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ না থাকার বিষয়টি এতদিন সবার নজরে এসেছিল। মাসখানেক আগে জি৭ ও ন্যাটো সম্মেলনে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছিল, আন্তর্জাতিক নিয়মভিত্তিক শাসন ব্যবস্থার জন্য চীন এখন হুমকি।

বিশ্বেরক দ্বিতীয় শীর্ষ অর্থনীতির দেশটির বিরুদ্ধে এভাবে ঐক্যবদ্ধ সরব হওয়ায় সাইবার নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে আমলে নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পশ্চিমা গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলেন, ঘটনা যে দিকে মোড় নিয়েছে, তা আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে সংঘাতিক।

মাইক্রোসফটের দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে হ্যাকাররা এই হামলা চালিয়েছে। এতে এমন একটি ব্যাকডোর রেখে যাওয়া হয়, যাতে তারা মাইক্রোসফটে আরও প্রবেশের সুযোগ পান। এছাড়া অন্য হ্যাকাররাও সেই সুযোগ কাজে লাগাতে চেষ্টা করেন।

যুক্তরাজ্য বলছে, এই সাইবার হামলার কারণে বড় ধরনের গুপ্তচরবৃত্তি আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে। এতে ব্যক্তিগত তথ্য ও মেধাস্বত্ব হাতিয়ে নেওয়া সম্ভব। চীনারা যে ব্যাকডোর ব্যবহার করেন, অন্য হ্যাকাররা সেই সুযোগ নিয়ে নেন। এতে র‌্যানসামওয়্যার হামলা ও গুপ্তচরবৃত্তির সুযোগ বেড়ে যায়।

ব্রিটেনে ৭০টি আক্রান্ত সংস্থার জন্য পরামর্শ দিয়েছে জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কেন্দ্র (এনসিএসসি)। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডমিনিক রাব বলেন, মাইক্রোসফট এক্সচেঞ্জ সার্ভারে চীনা রাষ্ট্রীয় সমর্থিত সাইবার হামলা অপরিণামদর্শী আচরণ। যা তাদের পরিচিত আচরণের মতোই। কাজেই এই পরিকল্পিত সাইবার-নাশকতা অবশ্যই তাদের বন্ধ করতে হবে।

সুত্রঃ সময় টিভি