Showing posts with label ব্রাজিল. Show all posts
Showing posts with label ব্রাজিল. Show all posts

Thursday, July 22, 2021

আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের উপর মরিচের গুঁড়া ছিটালো ব্রাজিল পুলিশ, গ্রেফতার ৩

আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের উপর মরিচের গুঁড়া ছিটালো ব্রাজিল পুলিশ, গ্রেফতার ৩

 আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের উপর মরিচের গুঁড়া ছিটালো ব্রাজিল পুলিশ, গ্রেফতার ৩

আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের উপর মরিচের গুঁড়া ছিটালো ব্রাজিল পুলিশ, গ্রেফতার ৩
অ্যাথলেটিকোর টানেলে সংঘর্ষ, আহত অ্যাথলেটিকো খেলোয়াড় স্যাভিও। ছবি: সংগৃহীত



আর্জেন্টাইন ক্লাব বোকা জুনিয়র্সের খেলোয়াড়দের উপর মরিচের গুঁড়ার স্প্রে ছিটিয়েছে ব্রাজিল পুলিশ। এছাড়া বোকার ৩ খেলোয়াড়কে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও জানা যায়।


গত রাতে (২১ জুলাই) কোপা লিবার্তোদোরেসের রাউন্ড অব সিক্সটিনের খেলায় আর্জেন্টাইন ক্লাব বোকা জুনিয়র্স ও ব্রাজিলিয়ান ক্লাব অ্যাথলেটিকো মিনেইরোর ম্যাচের পর রেফারির গোল বাতিলের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে দু’দলের খেলোয়াড়রা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। তখন বোকা জুনিয়র্সের খেলোয়াড়দের উপর মরিচের গুঁড়া প্রয়োগ করে ব্রাজিলের পুলিশ।


জানা গেছে, বোকা জুনিয়র্সের খেলোয়াড়রা অ্যাথলেটিকো মিনেইরোর ড্রেসিংরুমে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। অন্যদিকে মিনেইরোর খেলোয়াড়রাও বোকার খেলোয়াড়দের উপর পানির বোতল ছুঁড়ে মারতে থাকলে টানেলে ব্যাপক এক বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। পুলিশ এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বোকা জুনিয়র্সের খেলোয়াড়দের উপর পেপার স্প্রে বা মরিচের গুঁড়া প্রয়োগ করে। সংঘর্ষে দু’ক্লাবেরই বেশ কিছু খেলোয়াড় আহত হয়েছেন। তবে আঘাতগুলো গুরুতর নয় বলে জানা গেছে।


অ্যাথলেটিকো মিনেইরোর অফিসিয়াল টুইট বার্তায় বলা হয়েছে, তাদের ফুটবল ডিরেক্টর রদ্রিগো কায়তানোর উপরেও হামলার চেষ্টা চালানো হয়। বোকার খেলোয়াড়রা তাদের সামনে যাকেই পাচ্ছিল তাকেই মারছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতেই পুলিশ মরিচের গুঁড়া প্রয়োগ করতে বাধ্য হয়।


ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক খেলোয়াড়, বর্তমানে বোকায় খেলা মার্কোস রোহোকে একটি অগ্নি নির্বাপণযন্ত্র হাতে অ্যাথলেটিকোর ড্রেসিং রুমের দিকে তেড়ে যেতে দেখা যায়।


বোকা জুনিয়র্সের হেড অব ফুটবল ও ক্লাব লেজেন্ড হোয়ান রোমান রিকুয়েমে বলেছেন, মরিচের গুঁড়া স্প্রে করা হলে খেলোয়াড়রা নিজেদের বাঁচাতে চেষ্টা করবেই।


কোপা লিবার্তোদোরেসের রাউন্ড অব সিক্সটিনের দ্বিতীয় লেগে বোকা জুনিয়র্স ও অ্যাথলেটিকো মিনেইরোর ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়। প্রথম লেগের ম্যাচও গোলশূন্য ড্র হবার পর এই ম্যাচটি গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে ৩-১ গোলে জয় পায় অ্যাথলেটিকো মিনেইরো।


প্রথম লেগের ম্যাচেও বোকার একটি গোল বাতিল হয়েছিল রেফারির সিদ্ধান্তে। দ্বিতীয় লেগেও ম্যাচ চলাকালীন বোকা জুনিয়র্সের গোল ভিএআরের মাধ্যমে বাতিল করেন রেফারি। সে ঘটনাকে কেন্দ্র করে শেষ বাঁশি বাজার পর মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন দুই দলের খেলোয়াড়েরা। ম্যাচের পর টানেলেও আবার ক্লাব দুটির খেলোয়াড়দের মধ্যে ঘটে সংঘর্ষ। বোকা জুনিয়র্সের মিডফিল্ডার ডিয়েগো গঞ্জালেস বলেছেন, আমরা একটা চমৎকার গোল করেছিলাম। কিন্তু রেফারি তা বাতিল করে দেয়। যে কেউ এটি দেখতে পারে। আমাদের জয় বঞ্চিত করা হয়েছে। জয় আমাদের প্রাপ্য ছিল।

 যমুনা টেলিভিশন 


Saturday, July 10, 2021

ব্রাজিল ডিফেন্ডারকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ম্যাচ জিতেছিল আর্জেন্টিনা!

ব্রাজিল ডিফেন্ডারকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ম্যাচ জিতেছিল আর্জেন্টিনা!

আগামী ১১ জুলাই ব্রাজিলের ফুটবল তীর্থ মারাকানায় কোপা আমেরিকার শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে নামবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই লাতিন পরাশক্তি ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা।


ফাইনাল এমনিতেই রোমঞ্চকর, তারমধ্যে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা দ্বৈরথ, নেইমার-মেসির শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই। সবমিলিয়ে উত্তেজনা আর রোমাঞ্চের পারদ বেড়ে অসীম পর্যায়ে উঠেছে।



এমন ফাইনালই চায় ফুটবলপ্রেমীরা। তার ওপর ১৪ বছর পর দেখা হচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর। যে কারণে ফাইনালকে ঘিরে এখন থেকেই চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।


ঘাটাঘাটি হচ্ছে অতীত ইতিহাস ও জয়-পরাজয়ের পরিসংখ্যান। শতবছরের বিশ্বকাপের আলোচিত ঘটনাগুলোও সামনে এসে ধরা দিচ্ছে।


এমন মুহূর্তে আলোচনায় এসেছে ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপের একটি বিতর্কিত ঘটনা। যা ফুটবল ডিকশনারিতে ‘দ্য হলি ওয়াটার স্ক্যান্ডাল’ নামে পরিচিত।


ফুটবলপ্রেমীদের অনেকেরই জানা সেই ঘটনা। যেখানে আর্জেন্টিনা দলের বিরুদ্ধে আনা হয়েছিল গুরুতর এক অভিযোগ।


ওই বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিলেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি ম্যারাডোনা। শেষ ষোলোর লড়াইয়ে ব্রাজিলের মুখোমুখি হয় আর্জেন্টিনা। ম্যাচে দুর্দান্ত ম্যারাডোনাকে রুখতে যারপরনাই চেষ্টা করেন ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার (লেফট ব্যাক) ব্রাঙ্কো।


অভিযোগ রয়েছে,  ব্রাংকোকে পানির সঙ্গে ঘুমের ওষুধ ট্র্যাঙ্ক্যুলাইজার মিশিয়ে খাইয়েছিলেন আর্জেন্টাইন ফিজিও। যাতে ম্যারাডোনা স্বাচ্ছন্দে নিজের কার্যসিদ্ধি করতে পারেন।


 



ঘটনা সম্পর্কে যা জানা যায়, বিরতির কিছু আগে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড় পেদ্রো থ্রলিগো আহত হলে তাকে সেবা করতে আসেন ফিজিও। এ সময় আর্জেন্টাইন ফিজিওর কাছে পানির বোতল চান ব্রাঙ্কো। আর সুযোগের সদ্ব্যবহার করেন আর্জেন্টিনা দলের ফিজিও। ব্রাঙ্কোকে ঘুমের ওষুধ ট্র্যাঙ্ক্যুলাইজার মেশানো পানির বোতল দেন তিনি।  ব্যস, তাতেই কাজ হয়ে যায়। সেই পানি পান করে বিরতির পর মাঠে নামেন ব্রাঙ্কো। ঘুমের ঘোরে চোখ বন্ধ হয়ে আসতে থাকে তার। ম্যারাডোনাকে আটকাবেন কি নিজেকেই সামলাতে পারছিলেন না ব্রাঙ্কো।



আর সুযোগ কাজে লাগান ম্যারাডোনা। ৩ ডিফেন্ডারকে বোকা বানিয়ে ক্লডিও ক্যানিজিয়াকে ডি-বক্সে বল বানিয়ে দেন ম্যারাডোনা। ক্যানিজিয়া ব্রাজিলের জালে বল জড়িয়ে দেন অনায়াসেই।


আর ওই গোলেই নব্বইয়ের বিশ্বকাপ মিশন শেষ হয়ে যায় ব্রাজিলের। ১-০ গোলে ম্যাচ জিতে নেয় আর্জেন্টিনা।


ম্যাচ হারের পর ব্রাঙ্কো দাবি করেন, আর্জেন্টাইন ফিজিওর দেওয়া সেই পানি পান করার পর থেকে তার শরীর অসার হতে থাকে। সামনের সবকিছু ঘোলাটে দেখতে থাকেন। আর তার এই দুর্বলতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে ১০ মিনিটের মধ্যে গোল আদায় করে আর্জেন্টিনা।


যদিও ব্রাঙ্কোর এই দাবিকে সে সময় ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছিল আর্জেন্টাইন ফুটবল এসোসিয়েশন। তত্কালীন আর্জেন্টাইন কোচ কার্লোস বিলার্দোও  এমন কিছু ঘটেছিল বলে স্বীকার করেননি।


ব্রাঙ্কোর এমন অভিযোগের বিষয়ে তৎকালীন ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের সেক্রেটারি ম্যাকরো অ্যান্তনিও টেইক্সেরিয়া বলেন, ‘এটা অত্যন্ত ভয়াবহ অভিযোগ। আমরা এ বিষয়ে সব তথ্য আগামী সপ্তাহে ফিফার কাছে পাঠাব। যদি এর মধ্যে তারা কোনো সত্যতা খুঁজে পায় তবে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হবে। ’


কিন্তু ফিফা এ অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি সে সময়। এরপর থেকে বিষয়টি ‘দ্য হলি ওয়াটার স্ক্যান্ডাল’ নামে ইতিহাস হয়ে গেল।


ওই ঘটনার ১৫ বছর পর অর্থাৎ ২০০৫ সালে দিয়েগো ম্যারাডোনা এক সাক্ষাৎকারে সবাইকে চমকে দেন। ‘দ্য হলি ওয়াটার স্ক্যান্ডাল’ঘটনাটির কথা স্বীকার করেন। ব্রাঙ্কোকে দেওয়া পানিতে ট্র্যাঙ্ক্যুলাইজার ড্রাগ মেশানো ছিল বলে জানান ম্যারাডোনা।


ম্যারাডোনার এমন সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হতে না হতেই ফুঁসে ওঠে সেলেকাওরা। আর্জেন্টাইনদের ধুয়ে দিয়ে এর তীব্র প্রতিবাদ জানান।


সবচেয়ে বেশি ঝাঁঝালো মন্তব্য এসেছিল নব্বইয়ে ব্রাজিল দলের কোচ সেবাস্তিও লাজারনির মুখ থেকে। আসাটাই স্বাভাবিক। কারণ ওই ম্যাচে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের বিদায়ঘণ্টা বাজার পাশাপাশি লাজারনিরও কোচিং ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যায়।


তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে বলেছিলেন, ‘ম্যারাডোনার এই স্বীকারোক্তিতে বোঝা গেল, এটা আর্জেন্টিনা দলের নোংরা ও অপেশাদারিত্বের উদাহরণ। ফিফার এখনই উচিত আর্জেন্টাইন কোচ বিলার্দো আর তাদের ওই ফিজিওকে শাস্তি দেওয়া। ঘটনার ১৫ বছর পার হয়ে গেলেও তাদের শাস্তি দেওয়া উচিৎ। কারণ এমনটা তারা আবারও করবে না সে নিশ্চয়তা কে দেবে?’


তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, গোল ডট কম